
কেরালা, ২০২৩ - ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক একটি তীব্র ভূমিকম্পের ঘটনা দেশবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই ভূমিকম্পের ফলে বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্কের ছায়া পড়েছে। ভূমিকম্প সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কতটা জরুরি এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কখনো-সখনো ঘটে। তবে, যখন ঘটনা ঘটবে তা কেউ জানে না। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের ভূমিকম্পের প্রবণতা রয়েছে। দেশের বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন যে, ভূমিকম্পের প্রভাবে প্রস্তুত হওয়া দেশের সরকারের একটি গুরুতর দায়িত্ব। সরকারের উচিত জনসাধারণকে সচেতন করা এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা।
বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভূমিকম্পের ফলে ভবিষ্যতে মানবিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। কারণ, কিছু অঞ্চলে দ্বিতীয়বারের জন্য শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা এখনও বিরাজমান। দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানানো হচ্ছে যেন তারা তাদের এলাকা এবং জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী দলগুলোও জনগণকে সচেতন করতে ভূমিকা নিচ্ছে। তারা ভূমিকম্পের সময় নিজেদের সুরক্ষিত রাখার উপায় এবং জরুরি সাহায্য পাওয়ার মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করছে। এছাড়াও, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। প্রাথমিক চিকিৎসা, ফায়ার ব্রিগেডের সাথে যোগাযোগের পদ্ধতি এবং অন্যান্য জরুরি উদ্ধার কাজের সন্ধান করা প্রয়োজন। এটি সরকারের জন্য একটি প্রাথমিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। প্রত্যেক নাগরিকের জানা উচিত কি করতে হবে ভূমিকম্পের সময় এবং তার পর, কি ধরণের সহায়তা পাওয়া যাবে।
বিশিষ্ট ভূতত্ত্ববিদরা জানান, ভূমিকম্পের ফলে কিভাবে ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সে সম্পর্কে আরো গবেষণা প্রয়োজন। পুরানো ভবনগুলি, যেগুলি আধুনিক স্থাপত্য নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলি অধিকাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। সুতরাং, পুরানো ভবনগুলোর সংস্কার ও নিয়মিত পরিদর্শন করা উচিত।
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের প্রভাব থেকে যথাযথ শিক্ষামূলক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভূমিকম্পের সময় কি করা উচিত, তা নিয়ে বিশেষ ক্লাস পরিচালনা করা যেতে পারে। এইভাবে, শিশু ও যুবকরা ভবিষ্যতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক বেশি আতঙ্কিত হয়। তাই, এটি সরকারের দায়িত্ব, জনগণকে সঠিক তথ্য এবং নির্দেশনা প্রদান করা। সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সকল নাগরিক বিপদের সময় নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।
ভূমিকম্প আমাদের শেখায় যে, প্রস্তুতি কখনো অপ্রয়োজনীয় নয়। প্রতিটি নাগরিক ও সরকারের উচিত নিজেদের এবং পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। ভবিষ্যতে এ ধরণের দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হলে, সচেতনতা এবং প্রস্তুতি আমাদের সবার জন্য অপরিহার্য।