শিল্পকর্ম সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প

ঢাবির চারুকলা অনুষদে শিল্প সংরক্ষণ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগে ‘কনজারভেশন অব আর্ট: নেসেসিটি, চ্যালেঞ্জেস, প্রসপেক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, শিল্পকর্মের সঠিক সংরক্ষণ না করতে পারলে জাতির অমূল্য শিল্পসম্পদ কালক্রমে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অধ্যাপক সালাম আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্পকর্ম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান যে, শিল্পচর্চার পাশাপাশি শিল্প সংরক্ষণ বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

সেমিনারে বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি শিল্পকলাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, চারুকলার বিভিন্ন মাধ্যমে যেমন সিরামিক্স, অয়েল পেইন্টিং, কাঠ, কাগজ, পাথর ও কাদার কাজের ক্ষেত্রেও শিল্পকর্মের দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

শিল্পকর্ম ক্ষয়ের নানা কারণ আলোচনা করে অধ্যাপক সালাম জানান, বাইরের পরিবেশের পরিত্রুটির পাশাপাশি ঘরের বাতাসের রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ শিল্পকর্ম মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি শিল্পীরা শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারেন, তবে পরিবেশ ও শিল্পকর্মের সংরক্ষণ আরও টেকসই হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ এবং প্রাচ্যকলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ত্রিবেদী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাচ্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম।

অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন যথাযথ জ্ঞান অর্জন করে শিল্পের চর্চায় ব্রতী হন এবং শিল্প সংরক্ষণ বিষয়ে তাদের মনোযোগ দেন। শিক্ষার্থীরা এ সেমিনারের মাধ্যমে শিল্প সংরক্ষণে যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন, সেটির সাথে পরিচিত হয়েছেন।

এ ধরনের সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পসংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা করছে। লক্ষ্য হচ্ছে, ভবিষ্যত প্রজন্মের শিল্পীরা যেন পরিবেশ এবং নিজেদের শিল্পকর্ম সংরক্ষণে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। শিল্পকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


Comment As:

Comment (0)