পাকিস্তান কৃষক ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি নতুন আন্দোলন শুরু হয়েছে। কৃষকরা কৃষি আইন বাতিলের
কৃষি আন্দোলনের প্রত্যাবেদন: নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে প্রতিবাদ
পাকিস্তান জুড়ে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বাড়ছে। কৃষি আইন বাতিলের দাবি করে সম্প্রতি আবার আন্দোলনে নামতে শুরু করেছেন তারা। পাকিস্তান কৃষক ইউনিয়নের সদস্যরা জানান, সরকার তাদের ভাবনা ও দাবি উপেক্ষা করছে, যা দেশের কৃষক সমাজকে চরম সংকটের মুখে ফেলছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানী ইসলামাবাদসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
অনেকে বক্তৃতা করে বলেছেন, 'আমরা আমাদের অধিকারের জন্য আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে পিছপা হবো না। কৃষির উন্নতির জন্য আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।' কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার তাদের কৃষি আইন নিয়ে যথেষ্ট নজর দিচ্ছেনা এবং এই আইনগুলি তাদের জীবনযাত্রাকে আরো দুর্বিষহ করে তুলছে।
অন্যদিকে, কৃষক নেতা কাজী শাহবাজ বলেছেন, 'আমরা নতুন আন্দোলন গঠন করেছি যাতে কৃষকদের সমস্যাগুলো যথাযথভাবে সরকার কাছে পৌঁছাতে পারে। কৃষি আইন পরিবর্তন না হলে আমাদের আন্দোলন জোরদার হবে।' তারা জানান, এবার তারা কৃষক সংঘর্ষগুলোতে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হতে চান।
এই কৃষি আন্দোলনের পটভূমি দীর্ঘদিনের। দেশের কৃষকরা বিভিন্ন কারণে সমস্যায় পড়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, কম কৃষি মূল্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কৃষকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যাগুলির জন্য তাদের প্রাপ্য সহায়তা স্কিম গঠন ও সময়মত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নীতিমালা প্রদান অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, কৃষকরা সেগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। কৃষকরা বলেছেন, 'সরকার দিনের পর দিন আমাদের ভুল তথ্য দিচ্ছেন। বাস্তবে যে সমস্যা আমরা সম্মুখীন হচ্ছি, তার প্রতিকার হচ্ছে না। এজন্য আমাদের একত্রিত হয়ে আন্দোলনের চিত্র পরিবর্তন করতে হবে।'
কৃষক আন্দোলনের গুরুত্ব ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে করোনার পর কৃষকদের সমস্যা আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। অনেক কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না, যা তাদের জীবিকার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এই অবস্থান থেকে উদ্ধারের জন্য বারবার সরকারের কাছে দাবি জানালেন তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কৃষকদের এই আন্দোলন দেশের সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেশের কৃষিতে যে সংকট চলছে, সেটির পুরনো সমস্যা এখন নতুন করে মাথাচারা দিচ্ছে। কৃষকদের এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে সরকারের জন্য যেকোনো নির্বাচনে বিপদ হতে পারে।
শেষে, অনেক অভিজ্ঞ কৃষক দাবি করেছেন, 'আমাদের প্রকৃত সমস্যা ও দাবিগুলোর প্রতি সরকার যদি যথাযথ মনোযোগ না দেয়, তাহলে আমরা অচিরেই বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবো।' তারা এভাবে নিজেদের নিজেদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।





