নিউমার্কেটে ৯.৭৭ কোটি টাকায় নির্মিত এসকেলেটরযুক্ত ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধনের সাড়ে চার মাসের মধ্যেই হক

উদ্বোধনের সাড়ে চার মাসেই হকারদের দখলে নিউমার্কেটের ৯.৭৭ কোটি টাকার এসকেলেটর ফুটওভার ব্রিজ

ঢাকা: রাজধানীর নিউমার্কেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একমাত্র এসকেলেটরযুক্ত ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধনের সাড়ে চার মাসের মধ্যেই হকারদের দখলে চলে গেছে। প্রায় ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুতে এখন অস্থায়ী দোকান বসায় পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফুটওভার ব্রিজটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সেখানে কোনো অবৈধ হকার বা দোকান বসতে দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশজুড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন হকার অস্থায়ী দোকান বসিয়ে মোবাইল ফোনের কভার, চার্জার, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালি পণ্য, ঝালমুড়ি, ভাজাপোড়াসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন। এতে পথচারীদের চলাচলের জন্য মাঝখানে অল্প জায়গা অবশিষ্ট থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা মানুষকে পার হতে গিয়ে বারবার থামতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও ব্যাগ বহনকারী যাত্রীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ব্রিজের এসকেলেটর সচল থাকলেও অপর পাশের সাধারণ সিঁড়ির একটি অংশও দোকান বসিয়ে দখল করে রাখায় সেখানে ওঠানামাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের পর অনেক হকার এই ফুটওভার ব্রিজে এসে ব্যবসা শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, "জীবিকার তাগিদেই এখানে বসেছি। ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চালালে অন্য জায়গা খুঁজতে হয়। ব্যবসার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকলে ব্রিজে বসতে হতো না।"

পথচারীদের অভিযোগ, নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য নির্মিত ব্রিজটি এখন কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। শাহিনুর বেগম বলেন, ব্রিজের দুই পাশই হকারদের দখলে থাকায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটা যায় না। এছাড়া সিঁড়ির কাছে ভিক্ষুকদের অবস্থানের কারণে অনেকেই বিব্রত হন এবং বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নিচের সড়ক দিয়েই পারাপার করেন।

আরেক পথচারী রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ও নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার কারণেই উচ্ছেদের পরও হকাররা বারবার জনসাধারণের স্থান দখল করতে পারছেন। তাঁর দাবি, এসবের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মিরপুর রোড করিডোরে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধানে নির্মিত ৪২ মিটার দীর্ঘ ও ২০ ফুট প্রশস্ত ফুটওভার ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষ হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, প্রায় ১০ কোটি টাকার জনস্বার্থের এই অবকাঠামো এত দ্রুত দখল হয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, একটি সংগঠিত চক্র অর্থের বিনিময়ে হকারদের সেখানে বসতে দিচ্ছে। শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, এ চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে একাধিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এখনো ওই ফুটওভার ব্রিজে অভিযান চালানো হয়নি।

তিনি জানান, বিষয়টি করপোরেশনের নজরে এসেছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান চললেও উচ্ছেদের পর অনেক হকার আবার ফিরে আসেন বা অন্য জনসাধারণের স্থানে গিয়ে বসেন।

নূর আজিজুর রহমান আরও বলেন, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার বিপুল জনসংখ্যা ও সীমিত অবকাঠামোর কারণে নগর ব্যবস্থাপনায় নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


Comment As:

Comment (0)